বান্দরবান ভ্রমন ২০১৩ (আদিবাসী বর্ষবরণ উৎসব, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, নীলাচল , স্বর্ণমন্দির, বগালেক)

বান্দরবানে প্রথম গিয়েছিলাম ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে। আমার বন্ধু খুরশিদের মামা থাকত তখন ওখানে। জানুয়ারিতে যাওয়ার সুবাদে বান্দরবানের আদিবাসীদের একটা বিশেষ অনুষ্ঠান হয় "বর্ষবরণ উৎসব" যেটা দেখতে পেয়েছিলাম। আমরা ওখানে চার পাঁচ দিন ছিলাম। আমরা অনেকগুলা জায়গায় ঘুরতে গিয়েছিলাম।তারমধ্যে স্বর্ণমন্দির, নীলাচল, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র এবং বগালেক। বগালেক জায়গাটা খুব সুন্দর ওখানে পারমিশন নিয়ে যেতে হয়। আমরা একটি টিমের সাথে গিয়েছিলাম ফেরার সময় ওই টিমের সাথে ফেরা হয়নি কারণ তারা আরো চার-পাঁচ দিন থাকবে। ফেরার সময় আমাদেরকে একটি আদার বস্তা বোঝাই করা চান্দের গাড়ির ছাদে করে আসতে হয় যেটি খুবই রোমাঞ্চকর ছিল। অনেক খাড়া রাস্তা প্রায় ফোরটি ফাইভ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেল । এরকম রাস্তায় চান্দের গাড়ি চলছে আমরা চাঁদের গাড়ি উপরে দড়ি ধরে বসে আছি নিচের দিকে তাকালে মনে হচ্ছিল বিশ পঁচিশ তলা ছাদের উপরে আছি যেকোনো সময় ধপাস করে পড়ে যেতে পারি।এরমধ্যে পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য। একদিকে আতঙ্ক অন্যদিকে মনমুগ্ধকর দৃশ্য, সে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।






আদিবাসী বর্ষবরণ উৎসব

আদিবাসী বর্ষবরণ উৎসব উপজাতিরা প্রতিবছরই করে থাকে । আদিবাসী মারমা সম্প্রদায় নতুন বছরের আগমন অনুষ্ঠানটি অনেক বড় করে উদযাপন করে আর এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটিকে মারমাদের ভাষায় সাংগ্রাই বলা হয়। তখন পুরো এলাকা একদম উৎসবে মুখরিত থাকে। এই উৎসবকে ঘিরে ওখানে একটা মেলা হয়। মেলায় আদিবাসীদের তৈরি অনেক জিনিসপত্র পাওয়া যায়। অনেক ধরনের খেলা আয়োজন করা হয়। উৎসবকে ঘিরে সবাই অনেক সুন্দর করে সাজে। উৎসবটি দশ দিন যাবৎ হয়। এক কথায় অসাধারণ অভিজ্ঞতা বান্দরবান ঘুরতে গেলে জানুয়ারি কে কেন্দ্র করে যদি কেউ ওখানে যান তাহলে এই উৎসবটি দেখতে পারবেন।


মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র

বান্দরবান শহরের একেবারে কাছেই চার কিলোমিটার দূরে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রটি অবস্থিত। এখানে সবথেকে আকর্ষনীয় বিষয় হচ্ছে স্বচ্ছ পানির উপরে দুটি ঝুলন্ত ব্রিজ। তাছাড়াও আঁকাবাঁকা রাস্তা ছোট-বড় পাহাড় টিলা মনমুগ্ধকর সবুজ সবকিছু মিলিয়ে অসাধারণ । সারা বছর এখানে পর্যটকদের আগমনে মুখরিত থাকে।


নীলাচল

নীলাচল বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বান্দরবান শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়া নামক স্থানে পাহাড়ের চূড়ায় গড়ে তোলা হয়েছে নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন কেন্দ্রটিতে রয়েছে ঝুলন্ত নীলা, নীল রং রিসোর্ট, নীহারিকা এবং ভ্যালেন্টাইন পয়েন্ট নামক পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় বিশ্রামাগার। এছাড়াও বাচ্চাদের খেলাধুলার ব্যবস্থা ও বসার জায়গা রয়েছে। পাহাড়ের ঢালে ঢালে সাজানো হয়েছে জায়গাগুলো। ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে সামনের পাহাড়ের দৃশ্য ভিন্ন ভিন্ন রকম স্বতন্ত্র ও সুন্দর।

নীলাচল জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০০০ফুট উপরে অবস্থিত। এখান থেকে বান্দরবান শহরটিকে এক নজরে দেখা যায়। মেঘমুক্ত আকাশে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য উপভোগ করতে পারে পর্যটকরা। পড়ন্ত বিকেলে পাহাড়ের চূড়ায় সূর্য অস্ত পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।নীলাচলের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে একে বাংলাদেশ দার্জিলিং বলা হয়। 


স্বর্ণমন্দির

সম্পূর্ণ মন্দিরটি সোনার রং দিয়ে আবৃত বলে এই মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে স্বর্ণমন্দির। এই মন্দিরটি প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও এখানে কোন স্বর্ণের স্থাপনা নেই। মন্দিরটি মুখ আসুক মন্দির গয়া বুদ্ধ ধাতু জাদি মন্দির নামেও পরিচিত। একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত বলে এখান থেকে বান্দরবানের অনেক জায়গায় দেখা যায় তাই এই জায়গাটি অনেক মনমুগ্ধকর।

বগালেক

বগালেক বাংলাদেশের বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে রুমা উপজেলায় কেওকারাডাং এর গা ঘেঁষে বগালেকের অবস্থান। এই লেকটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার স্বাদু পানির লেক বা হৃদ যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩০০ফুট উচ্চতায়। এটি ১৫ একর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত। এই লেকটি ফানেল আকৃতির। পাহাড়ের অনেক উঁচুতে একটি অবস্থান হওয়ায় এর চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ লেকটিকে করেছে অপূর্ব ও আকর্ষণীয় ।

No comments

Portfolio Of Interior Architecture

অভ্যন্তরীণ আর্কিটেকচারের পোর্টফোলিও আমি সাকিব ইসমাইল  পেশায় একজন ইন্টেরিয়র আর্কিটেক্ট। ২০১৩ সালে SMUCT ইউনিভার্সিটি থেকে আমি আমার গ্রাজুয...

Theme images by chuwy. Powered by Blogger.